সংবাদ শিরোনাম
Home / অর্থ-বাণিজ্য / অতিরঞ্জিত ও মিথ্যা তথ্যের বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে হবে

অতিরঞ্জিত ও মিথ্যা তথ্যের বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে হবে

অনলাইন ডেস্কঃ ভোগ্য পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন মুখরোচক, অতিরঞ্জিত ও মিথ্যা বিজ্ঞাপন বন্ধের নির্দেশ দিয়ে চিঠি দিচ্ছে বাংলাদেশ নিরপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। দেশের বাজারে পণ্য বিক্রি করে যারাই এ ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার করে, তাদের শেষবারের মতো সময় বেঁধে দেবে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানটি।

এর আগে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করে, গণবিজ্ঞপ্তি দিলেও কোনো প্রতিষ্ঠানই নিজেদের বিজ্ঞাপন বন্ধ করেনি। তাই এবার প্রতিষ্ঠান ধরে ধরে এ নির্দেশনার চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এগুলো লেবেলিং প্রবিধানমালা, ২০১৭-এর পরিপন্থী।

গতকাল সোমবার বিএফএসএর কার্যালয়ে সংস্থাটির ‘স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড কোয়ালিটি অ্যাশিউর্যান্স টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ’-এর এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ গ্রুপে বিএফএসএ, এফএও, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটসহ (বিএসটিআই) কয়েকটি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএফএসএর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এসব অতিরঞ্জিত বিজ্ঞাপন, যা আইনের পরিপন্থী, সেগুলো বন্ধের জন্য নির্দেশ দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিচ্ছি। হয়তো কিছুটা সময় দেওয়া হবে। কিন্তু তার পরও তারা না মানলে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করব। দেশি-বিদেশি যেকোনো কম্পানিকেই এ নির্দেশ মানতে হবে।’

বিএফএসএ সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি পরিমাণে মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত বিজ্ঞাপন প্রচার হচ্ছে যুক্তরাজ্যের ফার্মাসিউটিক্যালস কম্পানি গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন (জিএসকে) উৎপাদিত কনজিউমার হেলথ কেয়ারের পণ্য হরলিক্সের প্রচারণায়। ‘বাচ্চাদের হারিয়ে যাওয়া গ্রোথকে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে কোনো অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি ছাড়াই। এর সায়েন্টিফিক ফর্মুলেশন সাহায্য করে ৩ গুণ বেশি উচ্চতা অর্জন করতে শুধুমাত্র ৯০ দিনে’—এ ধরনের ভিত্তিহীন প্রচারণা এক ধরনের প্রতারণা এবং বাজারে থাকা অন্য পণ্যগুলোকে ছোট করারও শামিল বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৬ সালে ভারতের একটি অঞ্চলের মানুষের ওপর গবেষণা করে একটি গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করে, যেটির কোনো গ্রহণযোগ্য অনুমোদন ভারতের কোনো সংস্থা বা বিদেশি তৃতীয় কোনো সংস্থার নেই। এ কারণে যেসব প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হবে, তার শুরুতেই থাকছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জিএসকে বাংলাদেশ জানায়, আমাদের সব পণ্যই বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করলে আমরা প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি দেখাবো। এ ব্যাপারে আমরা পূর্ণ সহযোগিতা করবো।

এর বাইরে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য যেমন—এনার্জি ড্রিংকস, জুস, দুধ, বিস্কুটসহ অন্যান্য পণ্য বিক্রির জন্য যারা রংচঙে বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন তাদেরও নির্দেশনা প্রদানে প্রথম তালিকায় রাখা হবে। অতিরঞ্জিত এসব কথার মধ্যে রয়েছে—‘হেব্বি এনার্জি, উৎপাদিত পণ্যটি সম্পূর্ণ কেমিক্যালমুক্ত, বাজারের সেরা, আমারটাই সেরা, ১৬ কোটি মানুষের হৃদয় জয় করে, বিশ্বের সেরা ড্রিংকস, একটু বেশি পিওর, খেলে অসম্ভব হবে সম্ভব, রাতারাতি কমে যাবে বয়স, ভেজাল প্রমাণে লাখ টাকা পুরস্কার, ১০০ ভাগ পিওর, ত্বক হয়ে উঠবে উজ্জ্বল, রোগ থেকে দেয় সুরক্ষা’ ইত্যাদি।

বিএফএসএ সূত্রে জানা গেছে, ‘চিঠি দিয়ে এসব পরিবর্তনের জন্য এক মাস করে হয়তো সময় দেওয়া হবে। কারো কারো ক্ষেত্রে আরো কম সময় দেওয়া হবে। এটা সর্বশেষ নির্দেশ। প্রত্যেক কম্পানিকেই এ নির্দেশনা দেওয়া হবে। একেবারে আলাদা আলাদাভাবে জানানো হবে। কারণ ইতিমধ্যে বৈঠক করে, গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েও তাদের কথা শোনানো যায়নি। এরপর কথা না শুনলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, প্রবিধানমালার দ্বিতীয় অধ্যায়ে ‘লেবেলিং’ শিরোনামে ৪ নম্বর ধারার (৭) উপধারায় বলা হয়েছে, ‘লেবেলে চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ বা সমতুল্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সুপারিশকৃত কোনো অভিব্যক্তি প্রকাশ বা ঘোষণা করা যাইবে না, যাহা হইতে ক্রেতা বিভ্রান্ত হইতে পারে।’ আর উপধারা (৮)-এ বলা হয়েছে—‘খাদ্য বা খাদ্যপণ্যের গুরুত্ব বৃদ্ধি করিতে উহার পরিমাণ ও পুষ্টিগুণের বিষয়ে লেবেলে কোনো মিথ্যা তথ্য, দাবি বা অপকৌশল অথবা রোগ নিরাময়কারী ইত্যাদি ধরনের কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য বা দাবি এবং উৎসস্থল সম্পর্কে কেনো বিভ্রান্তিকর বক্তব্য লিপিবদ্ধ করা যাইবে না। তবে সরকার বা কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত কোনো কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে গুণগত মানের নিশ্চয়তা বিধানসম্বলিত সিল প্রদান করা যাইবে।’

এর ব্যাখ্যায় বিএফএসএ বলছে, যারা উৎপাদক তারা কোনো ধরনের দাবি তুলতে পারবে না। খাদ্যে পুষ্টি ও উপাদান যা থাকবে তা উল্লেখ করতে পারবে। তবে এই উপাদান খেলে কী হয় বা হবে তা কোনোভাবেই বলা যাবে না। ক্লিনিক্যাল কোনো সার্টিফিকেশন দেওয়া যাবে না। কারণ সারা দিন একজন মানুষ অনেক ধরনের খাবারই গ্রহণ করে। উদাহরণস্বরূপ হরলিক্স খেয়েই যে একটা মানুষ শুধু লম্বা হয়ে যাচ্ছে এটা বলাটাই অযৌক্তিক। কারণ পৃথিবীতে এমন ভূরি ভূরি মানুষই রয়েছে, যারা কিনা কোনো দিন হরলিক্স খায়নি। ভোক্তাকে প্রভাবিত করা কোনো কথা বলা যাবে না।

২০১৭ সালের মে মাসে প্রবিধানমালা জারি হলেও এর বাস্তবায়নে সম্প্রতি কাজ করছে বিএফসএ। এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করে, সংবাদপত্রে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তাদের নির্দেশনা মানার কথা বলা হলেও এখনো কোনো প্রতিষ্ঠান এতে কর্ণপাত করেনি বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*