সংবাদ শিরোনাম
Home / শিক্ষাঙ্গণ / বেশি টাকায় ভর্তি হলেই নকল করার নিশ্চয়তা!

বেশি টাকায় ভর্তি হলেই নকল করার নিশ্চয়তা!

অনলাইন ডেস্কঃ কলেজ বটে! এখানে ভর্তি থেকে শুরু করে পরীক্ষার আগের দিন পযর্ন্ত শেখানোর চেয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় নকলে। সিরাজগঞ্জের সাখাওয়াত এইচ. মোমোরিয়াল নার্সিং কলেজের ঘটনা এটি। নকল করার সুযোগ দেয়ার কথা বলে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ও ফরমফিলাপে নেয়া হয়েছে অতিরিক্ত টাকা। অতিরিক্ত টাকা দিয়েও নকলে সুবিধা করতে না পেরে বিক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, ওই কলেজের অনেক শিক্ষার্থীকেই এক্সাটানার্লের কঠোরতায় জমা দিতে হয়েছে সাদা খাতা। আর নকলের কপি কাছে থাকায় ও নকল করায় বহিস্কারও হয়েছে কয়েকজন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী জানান, নার্সিংয়ে ডিপ্লোমা করার পর তিনি বিএসসি নার্সিং (পোস্ট বেসিক) এ ২০১৭-১৮ শিক্ষা বর্ষে ভর্তি হন। তাকে ভর্তির সময় জানানো হয়, ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার মধ্যে দুই বছরের কোর্স কমপ্লিট হয়ে যাবে। এক বছরে তিনি একলাখ টাকা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, এই একটি সুযোগ দেয়ার কথা বলে তারা রেজিস্ট্রেশন ও ফরমফিলাপেও টাকা অনেক বেশি নিয়েছে। রেজিস্ট্রেশন করতে অন্যান্য কলেজে লেগেছে ৯০০ টাকা করে। এই কলেজে নিয়েছে ৪ হাজার টাকা করে। ফরমফিলাপ করতে অন্যান্য কলেজে সবোচ্চ লেগেছে ১০ হাজার টাকা। আমাদের কাছ থেকে নিয়েছে ১৫ হাজার টাকা।

এই শিক্ষার্থী বলেন, আমি অনেক জায়গায় খোঁজ নিয়েছি। বগুড়ায় নার্সিং কলেজেও খোঁজ নিয়েছি। বেসরকারি কয়েকটি কলেজেও খোঁজ নিয়েছে। সেসব কলেজে ১০ হাজারের উপরে লাগেনি।

‘বেশি টাকা দেওয়ার সময় আমি তাদের কাছে প্রশ্ন করেছিলাম, অন্যান্য জায়গা এতো কম নিচ্ছে, আপনার এতো বেশি নিচ্ছেন কেন? তারা বলেছে, বাহির থেকে এক্সাটানার্ল আসবে, তাদের খাওয়া-দাওয়া, এটা-ওটা খরচা-পতি আছে।’

তিনি বলেন, ৩১ জুলাই প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয়। এ দিন এনাটমি পরীক্ষা ছিলো। ওই দিন রাজশাহী মেডিকেল থেকে দুই জন এক্সাটার্নাল এসেছেন। এসে কোনো কথা নেই । এখানে যারা, তারা তো অনেকেই বয়স্ক। যতই মুখস্ত করুক না কেন, দুই একটা পয়েন্ট তো ভুলে যেতেই পারে।

৪০ জন পরীক্ষার্থীর সকলেরই কাছে কিছু না কিছু কপি ছিলো। কারণ এই কলেজ থেকে এই মনোভাবই তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। বলেছে, আপনারা শুধু হাত ঘুরানোর প্রাকটিস করেন। আপনাদের পড়া নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। ‘পরীক্ষার আগের দিনও বলেছে- শুধু হাত ঘুরানোর প্রাকটিস করেন।’

তিনি দাবি করেন, ‘শিক্ষার্থীদের যদি বলা হতো, আপনারা পড়াশোনার করেন। আমরা কোনো সুযোগ দেব না। তাহলে সবার মেন্টালিটি ওইভাবে তৈরি হতো। সবাই সেইভাবে পড়াশোনা করতো। আমি প্রচুর পড়াশোনা করেছি। আমার তো নকল করে পাস করার চিন্তা নেই। চিন্তা যে আমি জ্ঞান অর্জন করবো ভবিষ্যতে বড় কিছু করবো এই জন্য পড়াশোনা করেছি। আমার বয়সও খুব বেশিনা, যে পড়াশনা করতে সমস্যা। কিন্তু যাদের বয়স বেশি তাদের তো সমস্যা।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*