সংবাদ শিরোনাম
Home / বিশেষ সংবাদ / মতামত / আমাদের সড়ক কি অনিরাপদই থেকে যাবে?

আমাদের সড়ক কি অনিরাপদই থেকে যাবে?

অনলাইন ডেস্কঃ কিছুতেই কিছু হচ্ছে না, আর হবেও না। আমাদের সড়ক অনিরাপদই থেকে যাবে। আমরা ঘর থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আর নিরাপদে বাড়ি ফেরার আশা করতে পারি না। নিজেদের মসনদ পাকাপোক্ত করতে আন্দোলন, সভা সেমিনার হয়, মসনদ লাভের আশায় জ্বালাও পোড়াও, মানুষ খুন হয়; আমাদের সড়ক নিরাপদ হয় না। আমাদের খুনে সড়ক নিয়ে কেউ ভাবে না, কেউ কথা বলে না। প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ বেতন-ভাতা বাড়ানোর জন্য, নিজেদের সুখ-শান্তির জন্য দিনের পর দিন অনশন করেন। প্রায়ই শিক্ষক, ডাক্তার, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, উকিল, নার্স সবাই নিজেদের লাভের খোঁজে রাস্তায় নানা কিসিমের আন্দোলন করেন, কেউ নিরাপদ সড়কের জন্য টুঁ শব্দটি করেন না। তাই আমাদের সড়ক-মহাসড়ক অনিরাপদই থেকে যাচ্ছে। আমাদের সড়কগুলো দানবীয় রূপে আবির্ভূত হচ্ছে। প্রতিদিন সড়কে ১০/১২ জন করে মানুষ মরছে। এটা কি সহজ কথা! এগুলোকে হত্যা বললে কি বাড়িয়ে বলা হবে?

দেশে নতুন নতুন সড়ক হচ্ছে, যমুনায় সেতু হয়েছে, স্বপ্নের পদ্মা সেতু হচ্ছে, উন্নত বিশ্বের আদলে ফ্লাইওভার হয়েছে, রাজধানীতে সুন্দর লেক হয়েছে, ফোয়ারা হয়েছে, উন্নত বিশ্বের মতো মেট্রো রেলও হবে। কিন্তু নিরাপদ সড়কের কী হবে? কিছুই হবে না। আমাদের সড়ক যেন এখন মরণফাঁদ। সড়ক-মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল থামাতে নেই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ।

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতরা পরোক্ষভাবে হত্যারই শিকার হন। কিন্তু হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জনকাঙ্ক্ষিত উদ্যোগ নেই বাংলাদেশে। বিগত এরশাদ সরকারের আমলে সড়ক দুর্ঘটনা অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে সরকার দুর্ঘটনা সংঘটনকারী গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করেন। এতে চালকের দায়িত্বে অবহেলার কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় কারো মৃত্যু ঘটলে এজন্য চালককে নরহত্যার দায়ে অভিযুক্ত করার বিধান রাখা হয়। কিন্তু পরিবহন শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে পরে তা রহিত করতে বাধ্য হয় সরকার। এরপর থেকে বিভিন্ন সরকারকে পরিবহন শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার কাছে প্রায় জিম্মি থাকতে দেখা যাচ্ছে। এভাবে দুর্ঘটনা সংঘটনকারী চালকদের শাস্তি না হওয়া, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, লাইসেন্সবিহীন ও অদক্ষ চালক কর্তৃক গাড়ি চালানো, আনফিট গাড়ি রাস্তায় চালানো, সড়ক যোগাযোগে অব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে ক্রমাগত। দুর্ঘটনার সাথে জড়িত চালকদের বিচারের কাঠগড়ায় নিয়ে আসার ঘটনা এদেশে বিরল। দেখা গেছে, প্রায় সব ক’টি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেই চালকরা পার পেয়ে গেছে। কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি তাদের বিরুদ্ধে।

দেশে সন্ত্রাস দমনে যদি বিশেষ র্যাব বাহিনী গঠন করা যায়, দুর্ঘটনা রোধে এ জাতীয় বাহিনী নয় কেন? এক হিসাবে দেখা গেছে, দেশে সন্ত্রাসীদের হাতে শতকরা ৩০ জন লোক মারা গেলে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় ৭০ জন। আমরা জেনেছি, কেবল সড়ক দুর্ঘটনায়ই দেশে গড়ে প্রতিদিন ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটছে। এ হিসেবে মাসে ৯০০ জন এবং বছরে ১০ হাজার ৮০০ জন মারা যাচ্ছে। তবে বিআরটিএ’র পরিসংখ্যান মতে, এ সংখ্যা দিনে ১৬ এবং বছরে পাঁচ হাজার ৭৬০ জন। আইন না মানাই হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ। এ ক্ষেত্রে সবাইকে আইন মানতে বাধ্য করতে হবে। ট্রাফিক পুলিশসহ প্রশাসন এ আইন প্রয়োগে ব্যর্থ হলে প্রয়োজনে তাদের ঢেলে সাজাতে হবে, অন্যথায় দুর্ঘটনা রোধে র্যাবের মতো বিশেষ বাহিনী গঠন করতে হবে।

দুর্ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে, ঘটবেও। কেন তা রোধ করা যাচ্ছে না? আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় দেশে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এসব রুখতে হবে। যেকোনো মৃত্যুই দুঃখজনক। সে মৃত্যু যদি অকাল ও আকস্মিক হয়, তবে তা মেনে নেওয়া আরও কঠিন। প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে একের পর এক অকালমৃত্যু আমাদের শুধু প্রত্যক্ষই করতে হচ্ছে না, এ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক বিভীষিকাময় ও অরাজক পরিস্থিতিও মোকাবিলা করতে হচ্ছে, যা কারোই কাম্য নয়। আমরা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পরিবহন মালিক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে সমন্বিত আন্তরিক, সচেতন, দৃঢ় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা আমরা আশাকরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*