সংবাদ শিরোনাম
Home / বিবিধ / জনস্বাস্থ্য / সরকারি হাসপাতালে সেবা বাড়লে রোগীরা ভারতমুখী হবে না

সরকারি হাসপাতালে সেবা বাড়লে রোগীরা ভারতমুখী হবে না

অনলাইন ডেস্কঃ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার মান বাড়ালে রোগীরা আর ভারতমুখী হবে না। এছাড়া ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে উন্নত টেকনোলজি থাকার কারণেই বাংলাদেশের রোগীরা ভারতে যান।

বাংলানিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভারতে প্রখ্যাত চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ড. অমিত সেনগুপ্ত একথা বলেন।

ভারতের চিকিৎসাসেবা ও নীতি নিয়ে গবেষণা করেন ড. অমিত সেনগুপ্ত। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবাকে জনসাধারণের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দিল্লির জনস্বাস্থ্য অভিযান নামে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত তিনি। জনগণের স্বাস্থ্য আন্দোলনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন উপলক্ষে এখন ঢাকায় তিনি।

বাংলাদেশের রোগীদের ভারতে চিকিৎসাসেবা নেওয়ার ঝোঁক রয়েছে। রোগীরা ভারতে যেতে কেন পছন্দ করেন, জানতে চাইলে ড. অমিত সেন গুপ্ত বলেন, বাংলাদেশের রোগীরা চিকিসার জন্য আগে এক সময় শুধু কলকাতায় যেতেন। এখন শুধু কলকাতায় যান না, ভেলোরে যান, চেন্নাই যান, দিল্লিও যাচ্ছেন।

‘তবে চিকিৎসাক্ষেত্রে ভারতের কোনো কোনো হাসপাতাল উন্নত টেকনোলজি ব্যবহার করেছে, যেটা বাংলাদেশ এখনো করতে পারেনি। এটা সবক্ষেত্রে না হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে হচ্ছে। এটা একটি দিক।’

বাংলাদেশের পাবলিক হাসপাতালে সেবার মান বাড়াতে হবে। পাবলিক হাসপাতালে সেবার মান বাড়ালে রোগীদের ভারতে যাওয়া কমবে। অবশ্য ভারতের পাবলিক হাসপাতালেও সেবার মান আরো বাড়ানো দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্বের কোন কোন দেশের পাবলিক হাসপাতালের সেবার মান ভালো বলে আপনি মনে করেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে ড. সেন বলেন, আপনি যুক্তরাজ্য যান, ফ্রান্সে যান। সেখানে গেলে দেখবেন, যুক্তরাজ্যে কেউ প্রাইভেট হাসপাতালে যায় না। ফ্রান্সেও কেউ যায় না। সেখানে পাবলিক হাসপাতালেই মানুষ সেবা নেন। এখন আমাদেরও পাবলিক সেক্টরে সেবার মান উন্নত করতে হবে। তবে একই সঙ্গে প্রাইমারি চিকিৎসাও উন্নত করা দরকার।

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে কোন দেশের পাবলিক হাসপাতালের সেবার মান ভালো- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কা এদিক থেকে খুব ভালো করেছে। সেখানের ৯০ শতাংশ হাসপাতাল সরকারি। আমরা তাদের অনুসরণ করতে পারি।

বাংলাদেশ ও ভারতের চিকিৎসাসেবায় কি ধরনের সামঞ্জস্য রয়েছে জানতে চাইলে অমিত সেনগুপ্ত বলেন, দু’দেশের মধ্যেই প্রাইভেট প্র্যাকটিস চলছে। স্বাস্থ্যের ওপর সরকারি খরচ যে হওয়া উচিত, তা থেকে অনেক নিম্নস্তরে। মোটামুটি একই চিকিৎসাসেবায় যে ধরনের ফ্যাসিলিটি থাকা দরকার সেটা হচ্ছে না। বাংলাদেশে চিকিৎসা খাতে মোট জিডিপির ১ দশমিক ২ বা ৪ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে। চিকিৎসা খাতে ব্যয় হচ্ছে ১ দশমিক ২ বা ৩ শতাংশ। প্রায় একই। তাই এখানে সরকারি ব্যয় আরো বাড়াতে হবে।

চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস এখন আগের মতো নেই। আগের প্রাইভেট প্র্যাকটিসে এতো ব্যবসা বা মুনাফা ছিল না। প্রাইভেট প্র্যাকটিস ছেড়ে এখন করপোরেট সেবায় ঝুঁকছে।

এখানে অনেক ডাক্তারদেরও সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*