সংবাদ শিরোনাম
Home / আন্তর্জাতিক / অমৃতসরে কার দায়িত্বহীনতার বলি হলেন এত মানুষ

অমৃতসরে কার দায়িত্বহীনতার বলি হলেন এত মানুষ

দিশারী অনলঅইন ডেস্কঃ
ভারতের অমৃতসরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপনের সময় ট্রেনে চাপা পড়ে অন্তত ৬১ জন নিহত হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গুরুতর আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৫ জন। শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু কার অপদার্থতার বলি হলেন এত মানুষ? রাবণপোড়ার বাজির শব্দে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল ট্রেনের হর্ন। সতর্ক ছিলেন না লেভেল ক্রসিংয়ের কর্মীও। শেষ মুহূর্তে ট্রেনচালকও গতি কমাতে পারেননি। উদ্যোক্তারাও কোনও ভাবে সতর্ক ছিলেন না। অমৃতসরে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার তদন্তে নেমে উঠে আসছে এমনই একাধিক কারণ। যার জেরে প্রাণ গিয়েছে অন্তত ৬০ জনের। দুর্ঘটনার পর থেকেই শোকে থমথমে গোটা এলাকা। ৬০ জনের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৩৯টি দেহ শনাক্ত করা গিয়েছে। অধিকাংশ দেহই ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে। তাই শনাক্ত করতে দেরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

রাবণপোড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন স্থানীয় কংগ্রেস নেতা তথা কাউন্সিলরের ছেলে সৌরভ মিঠু মদান। এর আগে ওই এলাকায় কখনও রাবণ পোড়ানোর অনুষ্ঠান হয়নি। রেললাইনের এত কাছে হলেও উদ্যোক্তাদের তরফে আগত মানুষজনকে সতর্ক করা হয়নি বলেও অভিযোগ। যদিও পঞ্জাবের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেত্রী নভজ্যোৎ কউর জানিয়েছেন, প্রতি বছরই ওখানে রাবণ দহন অনুষ্ঠান হয়।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঞ্জাব রাজ্যের দোবি ঘাট এলাকায় রাবণের কুশপুত্তলিকা দাহের অনুষ্ঠান পালন করা হচ্ছিল। স্থানটি জুরা পাটক রেললাইন সংলগ্ন। কুশপুত্তলিকা দাহের সময় আতশবাজি ফোটানো হচ্ছিল। এ কারণে দর্শনার্থীরা ট্রেনের আওয়াজ শুনতে পাননি। এনডিটিভির খবরে বলা হয়, সেখানে ৭০০ জনের মতো দর্শনার্থী ছিলেন। আতশবাজির স্ফুলিঙ্গ থেকে বাঁচার জন্য কিছু মানুষ রেললাইনের ওপর উঠে পড়ে। আর সে সময়ই ওই ট্রেন চলে আসে। স্থানীয় পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লাখবির সিংহ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রেল বোর্ডের চেয়ারম্যান অশ্বিনী লোহানি জানিয়েছেন, রেল লাইনের এত কাছে অনুষ্ঠান হলেও তাঁদের কিছু জানানো হয়নি। ফলে রেলকর্মীদের কাছে কোনও বার্তা ছিল না। অনুষ্ঠানের অনুমতি কি নেওয়া হয়েছিল? নাকি কাউন্সিলরের ছেলের অনুষ্ঠান বলে সেসবের প্রয়োজন পড়েনি ? রেললাইনের ধার ঘেষে রাবণপোড়ার মতো একটা অনুষ্ঠানের কেন অনুমতি দেওয়া হল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দশেরায় রাবণ দহনের অনুষ্ঠান চলছিল অমৃতসর থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে ধোবি ঘাটে। কমপক্ষে সাত হাজার লোক রাবণ দহন দেখতে জড়ো হন বলে পুলিশের দাবি। তাঁদের মধ্যে অনেকেই দাঁড়িয়েছিলেন ধোবি ঘাটের জোড়া ফটক ক্রসিংয়ের কাছে রেললাইনের ওপর। কারণ ওখান থেকে দহনের দৃশ্য অনেক ভালো দেখা যায়। রাবণ দহন দেখতে এসে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন ৬১ জন। ওই সময় রেললাইনে দাঁড়িয়ে রাবণবধ দেখছিলেন ৫০০ থেকে ৭০০ মানুষ। তখন আপ ও ডাউন লাইনে দুটি ট্রেন আসে। দ্রুতগতির ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মারা যান অন্তত ৬১ জন। জখম বেশ কয়েকজন। ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। রেল ও আয়োজকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ ঘটনায় অনেকেই ওই এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে পাঁচ লাখ রুপি করে দেওয়া হবে। আহত ব্যক্তিদের প্রত্যেককে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হবে।
গ্রিন সিগন্যাল পেয়েছিলেন ট্রেনচালক
অমৃতসরে ট্রেন দুর্ঘটনায় ট্রেনের চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। ট্রেনের চালক দাবি করেছেন, তাঁকে গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়েছিল। শত শত মানুষ রেললাইনে দাঁড়িয়ে থাকবেন এমন কোনো ধারণা তাঁর ছিল না। পাঞ্জাব পুলিশ ওই ট্রেনচালককে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, রেললাইনের কাছে রাবণের কুশপুত্তলিকা দাহের অনুষ্ঠান সম্পর্কে তাঁরা আগে থেকে কিছু জানতেন না। ইন্দো এশিয়ান নিউজ সার্ভিসের এক খবরে জানানো হয়, পুলিশ ওই অনুষ্ঠানের আয়োজকদের কোনো হদিস পায়নি। পুলিশ ওই ঘটনাস্থলের পাশে দায়িত্বরত লাইনম্যানকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তিনি রেলচালককে কিছু জানাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। জিনিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঞ্জাবের অমৃতসরে ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। আহত ৭২। আহত ব্যক্তিদের অমৃতসরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*